ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম নির্যাতনের অভিযোগ: সোচ্চারের নিন্দা

২৪ এপ্রিল, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম নির্যাতনের অভিযোগ: সোচ্চারের নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘গেস্টরুম’ নিয়ে মানসিক হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সোচ্চার – Torture Watchdog Bangladesh।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ৪৩তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী—আল মোসাদ্দেক, খালিদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ আনাস, সাবিক ইসলাম, ইব্রাহিম ও মনিরুল এর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের রাত জেগে ‘শিষ্টাচার’ শেখানোর নামে মানসিক হয়রানি ও অপমানজনক আচরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টা বা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় ‘ম্যানার শেখানো’র নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপমানজনক মন্তব্য এবং জোরপূর্বক আচরণ করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে মানসিক নির্যাতন ও র‍্যাগিংয়ের শামিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। এছাড়া কথা না শুনলে আরও সিনিয়রদের কাছে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। সাধারণত ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর কক্ষে এসব কার্যক্রম চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ডাইনিং রুমে প্রকাশ্যেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সোচ্চারের সভাপতি ড. শিব্বির আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মাহফুজুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের একটি নির্যাতনমূলক কাঠামো, যা শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হতো, তা কোনোভাবেই ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। তারা আরও বলেন, ‘পরিচিতিমূলক বৈঠক’ বা ‘ম্যানার শেখানো’—এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে নির্যাতনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো জোরপূর্বক, অপমানজনক বা ভয়ভিত্তিক আচরণ স্পষ্টভাবে নির্যাতন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। সোচ্চারের পক্ষ থেকে দাবি:

১. অভিযোগের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে।

৩. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. প্রতিটি আবাসিক হলে “র‍্যাগিং ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেল” এবং ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৫. নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন এবং নিরাপদ রিপোর্টিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সোচ্চার বিশ্বাস করে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা শুধু একটি অভিযোগের সমাধান নয়; বরং এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের নির্যাতনমূলক সংস্কৃতি বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

 

বার্তাপ্রেরক:

শফিকুল ইসলাম মাহফুজ

মিডিয়া ও পাবলিকেশন ডিরেক্টর, সোচ্চার : Torture WatchDog Bangladesh,

এবং পিএইচডি গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা বার্মিংহাম, ইউএসএ।

Email: [email protected]


আরো দেখুন